ঢাকা: রাস্তার কুকুরকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী-মেরাদিয়া লাল মিয়ার গলিতে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসফিকে একদল মানুষ ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটার সময় সেখানে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো মানুষ জড়ো হয়। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, চায়ের দোকানদার ও পথচারীদের একটি অংশও তাকে ঘিরে ধরার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কুকুরকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাস্তার কুকুরকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুমাইয়া তাসফিকে একদল মানুষ ঘিরে ফেলেন এবং তার ওপর শারীরিকভাবে হামলা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে তিনি কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারেননি। ফলে ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণ সংগ্রহ করাও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
থানায় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ
ঘটনার পর আইনি সহায়তা নেওয়ার জন্য থানায় যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন সুমাইয়া তাসফি। তবে সেখানে গিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
তবে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে থানায় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগটিও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনাটি সত্য হলে, একজন নারী শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধভাবে ঘিরে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ গুরুতর। একই সঙ্গে কারা ঘটনাস্থলে ছিলেন, কারা হামলায় জড়িত ছিলেন এবং ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।
প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন
ঘটনার অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে কি না এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
একই সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত মারধর, দলবদ্ধভাবে ঘিরে ধরা এবং থানায় সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়গুলো ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
