রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ফাহিম নামে এক যুবক। বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এদিকে, ঘটনার পর আইনি সহায়তা চেয়ে টানা দুই দিন মোহাম্মদপুর থানায় গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা মাহফুজুর রহমান।
পরিবারের দাবি, গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে লালমাটিয়া এলাকায় তৃতীয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি দেখতে পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান ফাহিম। এ সময় সেখানে উপস্থিত একজনকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে নাহিদ নামে এক তরুণের সঙ্গে ফাহিমের তর্ক চরমে পৌঁছায়। পরিবারের ভাষ্য, নাহিদ প্রথমে ফাহিমকে মারধর শুরু করলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ফাহিমের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি উভয় পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই নাহিদসহ কয়েকজন রড ও লাঠি নিয়ে ফাহিমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
স্বজনরা দ্রুত তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হওয়ায় তিনি বর্তমানে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর আইনি ব্যবস্থা নিতে বাদী হয়ে গত দুই দিন মোহাম্মদপুর থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ফাহিমের বাবা মাহফুজুর রহমান। তাঁর দাবি, সর্বশেষ মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা নেওয়া সম্ভব নয়; আদালতে গিয়ে মামলা করতে হবে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদপুর থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
